ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১ রমজান ১৪৪২

পানি আল্লাহর অপার দান, মূল্যবান তোহফা


প্রকাশ: ১৪ অগাস্ট, ২০২০ ০০:০০ পূর্বাহ্ন


পানি আল্লাহর অপার দান, মূল্যবান তোহফা

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী : পানি আল্লাহর অপার দান। মূল্যবান তোহফা। পানি ছাড়া বেশি সময় জীবনধারণ সম্ভব নয়। পানির অপর নাম জীবন। মানুষ, জীবজন্তু এবং উদ্ভিদ সবার অস্তিত্ব পানির মাধ্যমেই টিকে আছে। পানির গুরুত্ব তারাই বেশি অনুধাবন করবেন যাদের এখানে পানি চরম সঙ্কট, পানি আসলেও অল্প অল্প ফোটা ফোটা আসে। পানির গুরুত্ব সবচে বেশি বুঝে আসে, যখন মানুষ তীব্র পিপাসার্ত হয়। মানুষের শরীরের দুই তৃতীয়াংশে পানি বিদ্যমান। বাস্তবতা হলো, পানি জীবনের মৌলিক প্রয়োজন। পানি ছাড়া জীবনের কল্পনাই করা যায় না। মনে রাখতে হবে আল্লাহতায়ালা সবকিছুই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। পানির মাধ্যমেই মৃত জমিন সবুজ-শ্যামল হয়। বাগ-বাগিচায় ফল-ফুল আসে। পানির মাধ্যমে মানুষ পবিত্রতা অর্জন করে। বাহ্যিক অপবিত্রতা ময়লা দূর করে। পানি না থাকলে আবাদী সব বিরান হয়ে যেতো। 

পানি অমূল্য তোহফা। খোদা প্রদত্ত রহমত। পবিত্র কোরআনে একে রহমত বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহীরূপে বায়ু প্রেরণ করেন এবং আমি আকাশ হতে বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করি।’ (সূরা ফুরকান, আয়াত : ৪৮) পানি দ্বারা অজু করে মানুষ গোনাহ থেকে পবিত্র হয়। পানিকেই আল্লাহতায়ালা বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের জন্য নাজিল করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘ওরা কি লক্ষ্য করে না, আমি ঊষর ভূমির উপর পানি প্রবাহিত করে এর সাহায্যে উদগত করি শস্য, যা হতে আহার্য গ্রহণ করে ওদের চতুষ্পদ জন্তু এবং ওরাও? ওরা কি তবুও লক্ষ্য করবে না?’ (সূরা সাজদা, আয়াত : ২৭) পানি জমিন ও জমিনবাসীর মধ্যে প্রভা সৃষ্টি করে। পানির বর্ষণ খালি ময়দানে হলেও এর দ্বারা মনোরম দৃশ্য তৈরি হতে হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ বারি বর্ষণ করেন আকাশ হতে যাতে সবুজ শ্যামল হয়ে উঠে পৃথিবী? নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্যক সূূক্ষ্মদর্শী, পরিজ্ঞাত।’ (সূরা হজ, আয়াত : ৬৩) 

এই যে বৃষ্টি এটা আল্লাহর হুকুমে হয়। এ ব্যাপারে মানুষ অক্ষম। সাধ্য নেই যখন ইচ্ছা যেখানে আসমান থেকে পানি বর্ষণ করাবে। মানুষ যখন বৃষ্টি থেকে হতাশ হয়ে যায়। তখন আল্লাহ রহমতের বৃষ্টি দেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘ওরা যখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখনই তিনি বৃষ্টি প্রেরণ করেন এবং তাঁর করুণা বিস্তার করেন। তিনিই তো অভিভাবক, প্রশংসার্হ।’ (সূরা শূরা, আয়াত : ২৮) কখন বৃষ্টি হবে নিশ্চিতভাবে এটা কেউ বলতে পারে না। অনেক সময় বিজ্ঞানীদের ঘোষণাও ভুল প্রমাণিত হয়। 

পিপাসার্তকে পানি পান করানো একটি মহৎ সেবা। উত্তম সদকা। অনেক বড় সওয়াবের কাজ। জাহেলিয়াতের জমানাতেও  পানি পান করায় এমন লোকদেরকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হতো। 

নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে মুসলমান কোনো বস্ত্রহীনকে বস্ত্র পধিান করাবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিধান করাবেন। যে ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্ত মুসলমানকে খাবার দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো পিপাসার্ত মুসলমানকে পানি পান করাবে, আল্লাহ তাকে উৎকৃষ্ট জান্নাতের শরাব পান করাবেন, যার উপর সীল লাগানো থাকবে।’ (সুনানে আবু দাউদ)

পানির সব রকম সঙ্কট থেকে বাঁচার জন্য তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে মহান আল্লাহর কাছে। নিজের গোনাহের ওপর অনুশোচনার অশ্রু প্রবাহিত করতে হবে। সামনে অনুগত মুসলিম হয়ে জীবন-যাপন করার অঙ্গীকার করতে হবে। তাহলে আকাশ থেকে বর্ষিত হবে রহমতের বৃষ্টি। সবাইকে করবে পরিতৃপ্ত। নবী নূহ (আ.) স্বজাতিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি তো মহাক্ষমাশীল, তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন।’ (সূরা নূহ, আয়াত : ১০-১১)

আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো, ধন-সম্পটদের সঠিকভাবে জাকাত না দেওয়া। সাহাবি হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার মহানবী (সা.) আমাদের কাছে আসলেন। অতঃপর বললেন, যারা নিজের ধন-সম্পদের জাকাত বন্ধ করে দেবে, তাদের জন্য আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ রাখা হবে। এমনকি চতুষ্পদ জন্তু না থাকলে আদৌ বৃষ্টি হবে না।’-(হিলইয়াতুল আওলিয়া ৩/৩২০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০১৯)
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর নেয়ামত পানির যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম, 
বাগে জান্নাত, চাষাঢ়া, নারায়ণঞ্জ


   আরও সংবাদ