ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২, ৭ আশ্বিন ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

কক্সবাজারের ইয়াবা সম্রাট নবীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারী, ২০২২ ০১:২০ পূর্বাহ্ন


কক্সবাজারের ইয়াবা সম্রাট নবীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যু, গরু চোরাকারাবি, ইয়াবা সম্রাট নবী হোসেন ওরফে নইব্যার অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা এলাকায় যত গরু ও মহিষ চুরি হয় সবই তার নেতৃত্বে হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে গ্রেপ্তার করে না পুলিশ। 

এ বিষয়ে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। বললেই মিথ্যা মামলা, হামলা ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে থাকে। এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছে নবী। এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তাকে দ্রæত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন চকরিয়ার এলাকার বাসিন্দারা। 

গতকাল শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে কামাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, চকরিয়াস্থ রামপুরা বাজারে মৌলভী আমির হোসেনের দোকানে চুরি করতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা ও অস্ত্রসহ ধরা পড়ে এই নবী। 

অস্ত্র আইনে দীর্ঘদিন জেল খেটে বেরিয়ে আবারো একই কাজে লিপ্ত হয়। সে আন্ত:জেলা চোর চক্রের গডফাদার। টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসবায়ী সাইফুলকে নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায় নেমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়। পরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সাইফুল নিহত হয়। আর নবীকে মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু কালো টাকার জোরে উর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে নবী ক্রস ফায়ার থেকে রক্ষা পায়।

 এরপর চট্টগ্রাম কক্সবাজার এলাকায় সিন্ডিকেট তৈরি করে ইয়াবা ব্যবসা আবারো শুরু করে। পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী থানায় ধরা পড়া ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম উঠে আসে। নবীর বিরুদ্ধে মহেষখালী, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। 

তিনি আরো জানান, নবীর ভাই লেদ্যা একজন ভুমিদস্যু। অপর ভাই কায়সার গত ১১ জানুয়ারি ডাকাতির প্রস্তুতি ও গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়। তার আরো এক ভাই নুরুল আলম ওরফে আলইম্যা চোরার পুত্র শহীদুল্লা চোরা তার আপন মামাতো ভাইকে হত্যার দায়ে জেলে রয়েছে। শহীদুল্লা চোরার ভাই জোনায়েত্বা চোরা অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু এখন সে জামিনে মুক্ত। নবীর ভাই কুখ্যাত বাদল্যা ডাকাত স্বর্ন চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আবারো একই কাজে লিপ্ত। 

নবী চকরিয়া উপজেলার অগনিত নিরীহ লোকজনের ঘরবাড়ি দখল করেছে। রামপুর মৌজার সুন্দরবন চিংড়ি জোন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। এছাড়া একাধিক মৎস্য খামার দখল করে রেখেছে। 

এই নবীর কারণে এলাকার ব্যবসায়ী, সাধারন মুনষ অতিষ্ট। তার এ অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইন প্রয়োগকারি সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকার সাধারণ মানুষ।


   আরও সংবাদ