ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ ফাল্গুন ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চৌগাছায় হাইব্রিড মুলা চাষে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে সুখের হাঁসি


প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন


চৌগাছায় হাইব্রিড মুলা চাষে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে সুখের হাঁসি

মোঃ ফখরুল ইসলাম, চৌগাছা ( যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের চৌগাছায় আধুনিক পদ্ধতিতে হাইব্রিড মুলা চাষে কৃষকের  আগ্রহ বাড়ছে। মাত্র পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ দিনে বিঘা প্রতি লাভ হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। তাই কৃষকদের মুখে ফুটেউঠেছে সুখের হাঁসি। উপজেলার পাতিবিলা, হাজরাখানা, নারায়নপুর, পেটভরা ও লস্কারপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায় দিগন্তজুড়ে শতশতবিঘা জমিতে শুধুই মুলার আবাদ। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এ বছর আধুনিক পদ্ধিতিতে উপজেলা ও পৌর এলাকায় ২৩২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ৭ স্টার, হুয়াইট গোল্ড, পায়রা ৪০ ও আরলী ৩৫ সহ বিভিন্ন জাতের মুলা চাষ করেছেন কৃষকরা। তবে লস্কারপুর গ্রামের মাঠে সাধারণ মুলা চাষের চেয়ে মাঠটির ব্যতিক্রম হলো এমাঠের সব কৃষকই বেড আকারে মুলা চাষ করেছেন। এতে বর্ষার পানি দুই বেডের মাঝখান দিয়ে রাখা ড্রেন দিয়ে নিস্কাশন হচ্ছে। এতে করে পানি না জমাই মুলার কোন ক্ষতি হয় না।

জামালতা গ্রামের মুলা চাষী কৃষক হবিবর রহমান বলেন, এ বছর তিন বিঘা (৩৩ শতাংশে বিঘা) জমিতে ছয়টি খন্ডে হাইব্রিড মুলা চাষ করেছি। এক বিঘা জমি থেকে পয়ত্রিশ মণ মুলা বিক্রি করেছি পয়ত্রিশ হাজার টাকায়। ক্ষেতে যে মুলা রয়েছে তাতে আরো ১০ মনের বেশী বিক্রি করা যাবে। কথা হয় মুলা চাষি মতিয়ার রহমান, খেদের আলী, সুজা উদ্দিন ও রফি উদ্দীনের সাথে তারা জানান, হাইব্রিড মুলা চাষে লাভ বেশি। এজন্য দেশি জাত ছেড়ে হাইব্রিড মুলা চাষ করেছি। মাত্র পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ দিনে এক বিঘা জমির মুলা বিক্রি করে লাভ হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। তাই কৃষকদের মুখে ফুটেউঠেছে সুখের হাঁসি। পেটভরা গ্রামের মুলা চাষী আলা উদ্দীন, সামাউল ইসলাম বলেন, এ বছর বিঘাপ্রতি প্রায় পঞ্চাশ মণ করে মুলা হয়েছে। কিছু ক্ষেতে চেয়েও বেশি হয়েছে। জমি চাষ থেকে মুলা তুলে বিক্রি করা পর্যন্ত বিঘা প্রতি ৭/৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বর্তমান বাজারে ৫০ মণ মুলার পাইকারি মূল্য ৫০ হাজার টাকা। ফলে এক বিঘা জমিতে মুলা চাষ করে ৩৫ থেকে ৪০ দিনে ৪০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।

সোমবার চৌগাছায় মুলা কিনতে আসা পাইকারী ব্যাপারি খুলনার সিরাজুল ইসলাম, মিল্টন হোসেন ও আমির আলী বলেন, এ বছর আগাম হাইব্রিড জাতের মুলার ফলন অন্য বছরের চাইতে ভালো হয়েছে। মুকামে টান থাকায় দামও ভালো। এমন কথা বলতে বলতে তারা মূলা তুলার শ্রমিকদের সাথে নিজেরাই মুলা ট্রাকে উঠাচ্ছিলেন। তারা অরো বলেন, আমরা এক হাজার টাকা মণ দরে ক্রয় করেছি, আমরা আড়তে বিক্রি করবো। সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতারা কিনে বিক্রি করবেন। তিনি জানান, বাজারে খুচরা ৩৫/৪০ টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি হচ্ছে।উপজেলা কৃষি অফিসার সমরেন বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় হাইব্রিড চায়না, চাষা কৃষাণসহ বিভিন্ন জাতের মুলা চাষ করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া ভালো থাকায় মুলার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা বেজায় খুশি।


   আরও সংবাদ