ঢাকা, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ আষাঢ় ১৪৩০, ২২ শাবান ১৪৪৫

ফেসবুকে প্রতারণার দায়ে চার বিদেশীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি


প্রকাশ: ২৬ অগাস্ট, ২০২০ ০০:০০ পূর্বাহ্ন


ফেসবুকে প্রতারণার দায়ে চার বিদেশীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

   

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর দক্ষিণ খান থানাধীন কাউলা ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম। এ চক্রের সদস্যরা নাইজেরিয়া ও ঘানার নাগরিক। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা জিসানুল হক এক বার্তায় এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলো- সিসম, মরো মহাম্মদ, মরিসন ও এন্থনী। এসময় তাদের কাছ থেকে অভিযানে আসামীদের কাছ থেকে ৬টি ল্যাপটপ, বেশ কিছু সিম এবং ৬টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারণার শিকার এক ভিকটিমের অভিযোগের সূত্র ধরে সিআইডি তাদের গ্রেফতার করে। তারা অভিনব কায়দায় সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের ব্যাক্তিদের সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করে। বন্ধুত্বের এক পর্যায়ে একটি তথাকথিত মেসেঞ্জার আইডি হতে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সহ পার্সেল গিফট করার প্রস্তাব দেয় এবং পরবর্তীতে মেসেঞ্জারে এই সব মূল্যবান সামগ্রির এয়ার লাইনস্ বুকিং এর ডকুমেন্ট পাঠায়। এরপর এসব গিফট বক্সে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মূল্যবান সামগ্রি রয়েছে বলে তারা ভিকটিমকে অবহিত করে এবং তা কাস্টমস্ হতে রিসিভ করতে বলে। এসময় তাদের অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে কাস্টমস্ কমিশনার পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে মূল্যবান গিফটি গ্রহন সহ শুল্ক বাবদ মোটা অংকের টাকা কয়েকটি ব্যাংক একাউন্টে পরিশোধের জন্য চাপ দেয়। গিফটি রিসিভ না করলে আইনি জটিলতার ভয়ও দেখায়। ফলশ্রুতিতে ভিকটিম তাদের দেয়া বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে মোট ৫৫ হাজার টাকা জমা দেয়। একই ভাবে আসামীরা পরষ্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে সারাদেশে অসংখ্য ভিকটিমের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা গত কয়েক মাসের মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে মর্মে সিআইডি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বিদেশীরা দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে এ ধরণের প্রতারণা করে আসলেও এদেশে তাদের অবস্থানের বৈধ কোন কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে পারে নাই। প্রথমত তারা ট্যুরিস্ট, খেলোয়ার, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে, পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু এজেন্টের সহায়তায় এধরনের প্রতারণা করে। প্রতারণার সাথে সম্পৃক্ত ব্যাংক একাউন্ট গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধানে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তাদের দেশীয় সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে সিআইডি কাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব ফরহান এর নেতৃত্বে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি বিশেষ টিম উক্ত অভিযানটি পরিচালনা করে। এ বিষয়ে ভিকটিম খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলা করেছে।


   আরও সংবাদ