ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৭, ৭ সফর ১৪৪২

দূর্ভোগের এক কিলোমিটার, সড়ক নাকি মরণ ফাঁদ!


প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট, ২০২০ ১৪:০০ অপরাহ্ন


দূর্ভোগের এক কিলোমিটার, সড়ক নাকি মরণ ফাঁদ!

সিলেট থেকে তান্নি : গ্রাম বাংলার রুপে কত কবি শত কবিতা যুগ যুগ ধরে লিখে গেছেন। দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ, খাল-বিল, শ্যামল ছায়া, নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ঘেরা সৃষ্টি কর্তার এক অপরুপ সৃষ্টি। কিন্তু গ্রামের মেঠোপথ যদি হয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ! 

সিলেটের বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার খালের মুখ বাজার থেকে তালতলা বাজার পর্যন্ত স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র এক কি: মি: রাস্তা!

মোমিনপুর, মীরপুর, তালতলা, বশিরপুর, দৌলতপুর, বনগাও, জামালপুর, আজিজপুর ও নলজুড় সহ প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো সাধারণ মানুষকে এই এক কি:মি: রাস্তা ব্যবহার করে বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর ও সিলেটে যাতায়াত করতে হয়। নবীন-প্রবীন সবাইকে গ্রীষ্মে প্রচন্ড ধুলাবালী আর বর্ষায় কাদাপানির ঝামেলা পোহাতে হয়। 

এলাকাবাসী জানান, অনেকগুলো গ্রামের সেতুবন্ধন তৈরী করেছে রাস্তাটি। হাজারো মানুষের পদচারণ, অথচ ৩০বছর যাবত রাস্তাটির বেহাল দশা। ফলে যাতায়াতের জন্য এক রকম যুদ্ধ করতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষদের। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে রাস্তাটি গেলেও বালাগঞ্জ উপজেলার মধ্যে যে অংশ ছিল সে অংশ পাকাকরণ হয়ে গেছে। কিন্তু ওসমানীনগর উপজেলার বাকী অংশ (এক কিলোমিটার) ইটসলিং কিংবা পাকাকরণ হয়নি। 

এলাকাবাসীরা বার বার এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের অবগত করেছেন কিন্তু বরাবরই আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাননি। সবাই রীতিমত হতাশ। রাস্তাটির সংস্কার এখন সময়ের দাবী বলে উল্লেখ করেন স্থানীয় উছমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আহমদ। 

এছাড়া মোমিনপুর মহিলা মাদ্রাসা, সপ্তমৌজা তালতলা আজিজপুর মাদ্রাসা, মোমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রাইম একাডেমী আজিজপুর বাজার, আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নবগ্রাম হাজী ছাইম উচ্চ বিদ্যালয়, মাদার বাজার এফইউ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসাসহ  স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা দিগুন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কিন্ডার গার্টেন থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক কারোই রেহাই নেই। 

এ বিষয়ে মোমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাইয়ূম জানান, ঝড় কিংবা বৃষ্টি হোক আমাদের প্রতিদিনই এ সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত এবং বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়। যেখানে আমরা বড়দের চলাচল করতে অসুবিধা সেখানে আমার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা কতটুকু ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামসুল ইসলাম বলে, প্রায়ই আমাদের ক্লাস কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বেগ পোহাতে হয়। কখনও ধুলা-বালি অথবা পিচ্ছিল এই রাস্তায় চলাফেরা করতে আমাদের অনেক অসুবিধা হয়।

ভেবে দেখুন একজন ইমার্জেন্সী রোগীর জন্য এই এক কিলোমিটার রাস্তাটি কি হতে পারে? সড়ক নাকি মরণ ফাঁদ!

এব্যাপারে ওসমানীনগর উপজেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, পল্লী চিকিৎসক এনামুল হক জানান,অনেকদিন থেকেই রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। অসুস্থ্য হলে গ্রামের লোকজন সেবা গ্রহন করতে এই  রাস্তা দিয়ে আসতে হয়। ফলে শারিরীকভাবে অসুস্থ লোকজন বিশেষ করে বয়স্ককের আরও বেশী অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

এলাকার বেশীর ভাগ মানুষ কৃষিজীবী ও মৎসজীবী এবং প্রতিনিয়ত কৃষিপণ্য এই রাস্তা দিয়ে বাজারজাত হয়। ফলে ব্যবসায়ীদের অনেক দুর্যোগ পোহাতে হয়। আমরা সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান এর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছি। এব্যাপারে তিনি আমাদের রাস্তাটি দ্রত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি রাস্তাটি সংস্কারের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। 

রাস্তাটি দেখার পর এমন চিত্রই ফুটে উঠবে “আমাদের রাস্তাটি চলে বাঁকে বাঁকে, বৃষ্টিতে যেখানে হাঁটুজল থাকে।”

সড়ক না হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করে উছমানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ময়নুল আজাদ ফারুক জানান, আমি আমার জায়গা থেকে অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। আদৌ এই সমস্যার সমাধান হবে কি-না আমার জানা নেই। 

তবে এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী বলেন, আমি সড়কটি দেখেছি। এলাকাবাসী যদি রাস্তার আইডি নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেন আমি ইনশাআল্লাহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রাস্তাটি শীঘ্রই পরিদর্শন করবেন বলে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান জানান, এলাকাবসী কয়েকদিনের মধ্যে যদি সড়কের বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কথা বলেন অবশ্যই আমি গুরুত্ব সহকারে বিষটি দেখব। এবং আমি অতিদ্রুত একজন প্রকৌশলী নিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করে আসব। রাস্তাটির সমস্যা অতিদ্রুত সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী। 

প্রসঙ্গত, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার কেন্দ্রস্থল বড়ভাগা নদীর উপর নির্মিত সেতুটির অর্ধেক বালাগঞ্জ ও অর্ধেক ওসমানীনগর উপজেলায় অবস্থিত। বালাগঞ্জ সীমানার রাস্তাটুকু পীচ থাকলেও ওসমানীনগরের রাস্তাটি এখনও আগের মতোই আছে। এমনকি ইট সলিংও হয়নি।


   আরও সংবাদ