ঢাকা, রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮, ৪ শাওয়াল ১৪৪২

কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক ফ্লয়েড হত্যায় দোষী পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে


প্রকাশ: ২১ এপ্রিল, ২০২১ ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন


কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক ফ্লয়েড হত্যায় দোষী পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার জন্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চভিন (৪৫)'কে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির আদালত। গতকাল মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে ১২ সদস্যর বিচারিক বোর্ড এই রায় ঘোষণা দেন। 

তার নামে নিয়ে আসা তিনটি অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চভিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযোগ তিনটি হলো- প্রথম, সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার, থার্ড-ডিগ্রি মার্ডার ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। যা প্রমাণিত হলে বিচারকরা এই রায় দেন। ফলে ডেরেক চভিনের ৪০ বছরের সাজা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রায় ঘোষণার সময় তৎক্ষণাত ডেরেক চভিনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন বিচারিক আদালত। দুই মাসের মধ্যে তার সাজা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ক্ষেত্রে এই রায়কে ঐতিহাসিক রায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই রায় ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদালতের বাহিরে উপস্থিত শত শত মানুষ উল্লাসে ফেটে পরে।

রায় ঘোষণার পরে ফ্লয়েড পরিবারের আইনজীবী বেন ক্র্যাম্প বলেন, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

রায় ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেন এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস মৃত ফ্লয়েডের পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য ডাকেন। এ বিষয়ে বাইডেন বলেন, এখন অন্ত্যত কিছুটা ন্যায়বিচার হয়েছে। আমরা বর্ণবাদ প্রাথা নিয়ে আরও অনেক কিছু করতে যাচ্ছি। বর্ণবাদ মোকাবেলায় এটি কেবল একটি প্রচেষ্টা মাত্র। 

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের রাস্তায় বর্ণবাদ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেফতার করার সময় তার ঘাড়ে ৯ মিনিটের বেশি সময় ধরে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চভিন। 

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের বল প্রয়োগ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। যা পরবর্তীতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পরে।


   আরও সংবাদ