ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ৭ জৈষ্ঠ্য ১৪২৭, ৬ জ্বমাদিউল সানি ১৪৪২

অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় জবির পয়ঃনিষ্কাশন অবস্থা নাজুক


প্রকাশ: ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১০:২০ পূর্বাহ্ন


অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় জবির পয়ঃনিষ্কাশন অবস্থা নাজুক

জবি প্রতিনিধি : পুরাণ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। সাড়ে সাত একরের ছোট এ ক্যাম্পাসে কলেজ আমলের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের জায়গা দখল করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘর নির্মাণ, যথাযথ স্থানে ময়লা না ফেলায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা দেখা গেছে। 

এতে করে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় ড্রেনগুলোতে। ভালো নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ড্রেনে সবসময় পানি ও ময়লা আটকে থাকায় ডেঙ্গু মশার ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বেশির ভাগ ড্রেন খোলা আর নোংরা অবস্থায় রয়েছে। ড্রেনে ঢাকনা না থাকায় গাছের পাতা ও মানুষের বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা পানিতে আটকে আছে। ময়লা জমে চরম দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আটকে থাকা পানিতে অসংখ্য মশার লার্ভা ও মাছির ভনভনানি দেখা যায়।

এসব চিত্র বেশি চোখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন, ভাষা শহীদ রফিকভবন, গণিত, ভূগোল ও নাট্যকলা বিভাগের ক্লাসরুমের পেছনে ড্রেনগুলোতে। সেখানে ক্যাম্পাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসতি। এসব ড্রেনগুলো জায়গা দখল করে কেউ নিজের বসতি ঘর (রফিক ভবনের পেছনে), কেউ রান্না ঘর (কলা ভবনের পেছনে), কেউ কবুতর ঘর (গণিত বিভাগের পেছনে) নির্মাণ করেছেন। তারা তাদের যাবতীয় উচ্ছিষ্ট, বর্জ্য ফেলে রেখেছেন ড্রেনেই। ফলে এসব ময়লা আবর্জনার কারনে ড্রেন অচল হয়ে পড়ে আছে।

এ বিষয়ে ড্রেনের পাশে বসবাস করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, ক্যাম্পাসে ময়লা ফেলার জন্য  কোন বিন নেই। মাত্র এক জায়গায় (কাঁঠালতলায়) ময়লার কন্টেইনার আছে। ক্যাম্পাসে এতো দূরে গিয়ে অনেকে আলসেমি করে কন্টেইনারে ময়লা ফেলতে চান না। ক্যাম্পাসে ইসপ্রে করা হলেও পানি জমে থাকার কারণে মশা নিধন হয় না। এছাড়া বৃষ্টি হলে পানি জমায় ভোগান্তির শেষ থাকে বলেও জানান তারা।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরীতে পড়তে আসা আমিরুল ইসলাম রণি বলেন, লাইব্রেরীর পাশে কাঁঠালতলায় সবসময় ময়লা জমে থাকে। দুর্গন্ধে পড়ালেখার পরিবেশ থাকে না। আগে ওখানে একটি ময়লার কন্টেইনার থাকলেও এখন সেটাও নেই। এছাড়া আমাদের ছোট এ ক্যাম্পাসে ৭-৮টি ময়লা রাখার বিন রাখলে পরিবেশ সুন্দর থাকত। দুর্ভাগ্য ময়লা রাখার জন্য যথেষ্ট বিন নাই।

জবি কেয়ারটেকার শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার ইসমাঈল হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসের যে ড্রেন রয়েছে সেগুলো কলেজ আমলে করা। অনেক সরু, কোথাও উঁচু কোথাও নিঁচু। এগুলো দিয়ে পানি বের হয় না। আমরা প্রকৌশল দপ্তরে ড্রেন সংস্কারের জন্য লিখিত দিয়েছিলাম কিন্তু কাজ হয়নি। নতুন করে আবার দিব। 

তিনি আরও বলেন, ড্রেন সরু ছাড়াও ক্যাম্পাসে বসবাস করা কর্মচারীরা ময়লার কন্টেইনারে ময়লা না ফেলে ড্রেনের ভিতর ফেলায়। এতে করে ড্রেন আরও অকেজো হয়ে যায়। কন্টেইনারে ফেলার জন্য আমরা কর্মচারীদেরকে আগে নোটিশও দিয়েছি। কিন্তু কাজ হয় না। এসময় তিনি ক্যাম্পাসে বিন কেনার জন্য আবেদন করবেন বলেও জানান।

ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, 'আমি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নিযুক্ত হয়েছি। তাই এই বিষয়ে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তবে আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।'


   আরও সংবাদ