ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৭, ১৯ রবিউল সানি ১৪৪২

জবির একাডেমিক ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ বসতি


প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন


জবির একাডেমিক ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ বসতি

জবি থেকে রকি আহমেদ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে বসতি স্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা তাদের এ বসতির জন্য ক্লাস রুমের পরিবেশ নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসরুমের সামনেই তাদের বসতি স্থাপনের ফলে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক ও শৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রম। এদিকে একাডেমিক ভবন ছাড়তে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পৃথক নোটিশ দেয়া হলেও তারা ভবন ছাড়তে গড়িমসি করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বজলুর রহমান একাডেমিক ভবনের অর্থনীতি বিভাগের ক্লাসরুমের সামনে সিঁড়ির নিচে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ভূগোল বিভাগের সেকশন অফিসার সানভীব আহমেদ বাচ্চু। রসায়ন বিভাগের ক্লাসরুমের পাশে সিঁড়ির নিচে বসতি গড়েছেন সামসুল আলম নামে ইতিহাস বিভাগের আরেক কর্মকর্তা। একই বিভাগের পাশে সিঁড়ি ও ক্লাসরুমের মাঝখানে নিজস্ব বাসা বানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সেকশন অফিসার আবু ইমরান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সেকশন অফিসার জাবেদ আলী খান ও বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার আক্তার হোসেন। এছাড়া ভাষা শহীদ রফিক ভবনের পেছনে দেয়াল ঘেষে ক্যাম্পাসের ড্রেন বন্ধ করে বসবাস করছেন ভিসি দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জামাল হোসেন শামসুল আলম বকাউল ও খোকন নামে তিন কর্মকর্তা।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ক্লাস চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তারা কখনো লুঙ্গি পরে, কখনো দাঁত ব্রাশ করতে করতে অথবা সম্পূর্ণ অগোছালো অবস্থায় রুম থেকে বের হন। এমতাবস্থায় শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটা আরও অস্বস্তিকর। এসকল কর্মকর্তাদের একাডেমিক ভবনে বসতি ছাড়তে নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামানের সাক্ষরিত সেই নির্দেশে ৩০ ডিসেম্বর,২০২০ এর  মধ্যে তাদেরকে একাডেমিক ভবন ছাড়তে বলা হয়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে তারা সেখানেই বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে ভূগোল বিভাগের শানভীব আহমেদ বাচ্চু বলেন, ক্যাম্পাসে যদি কোন কর্মকর্তা না থাকে তাহলে আমিও থাকব না। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের জন্য ডরমেটরি আছে কিন্তু আমাদের নেই। আমাকে যদি অন্য জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমি চলে যাব।

ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা আরেক কর্মকর্তা জাবেদ আলী খান বলেন, আমার বাবা আগে এখানে চাকরি করত। সেই সূত্রে ছোটবেলা থেকে এখানে থেকে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে ডিসেম্বরে চলে যেতে নোটিশ দিয়েছে। তবে আমরা আরও কিছু বাড়তি সময়ের জন্য আবেদন করব।

এদিকে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মচারীরাও ঘাঁটি গড়েছেন একাডেমিক ভবনগুলোতে। জানা যায়, ভূগোল বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন বাসচালক মনির। পরিসংখ্যান বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন হারুনুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও মো ফারুক। তারা ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের কর্মচারী। বজলুর রহমান ভবনে থাকেন কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক তাজুল ইসলাম ও বাসচালক খোকন। অন্যদিকে উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন আব্দুল খালেক, মো. টিপু, মো. আজিজ নামে তিনজন কর্মচারী।

একাডেমিক ভবনে থাকা এসকল কর্মচারীদেরকেও ভবন ছাড়তে গত ২০ সেপ্টেম্বর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোটিশে ৭ (সাত) দিনের মধ্যে একাডেমিক ভবন ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে এখনো বসবাস করতে দেখা গেছে এসকল কর্মচারীদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান বলেন, একাডেমিক ভবন ছাড়তে তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অনেকে কিছুদিন সময় চেয়ে আবেদন করেছে। সেটা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে জানাবে। তবে একাডেমিক ভবনে যারা বসবাস করছে তাদেরকে চলে যেতে হবে।


   আরও সংবাদ