ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২, ৭ আশ্বিন ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

কঠোর নিরাপত্তায় বর্ষবরণ, ড্রোন দিয়ে মনিটারিং


প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল, ২০২২ ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন


কঠোর নিরাপত্তায় বর্ষবরণ, ড্রোন দিয়ে মনিটারিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে পালিত হলো পয়লা বৈশাখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনাসহ আশপাশের এলাকায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে ছিল এলিট ফোর্স র্যাব ও পুলিশের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলায়।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের প্রত্যেকটি পয়েন্টে ছিল পুলিশের তল্লাশী ও মঙ্গল শোভাযাত্রাও তল্লাশী ছাড়া কাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আর পুরো এলাকায় জুড়ে ছিলো র্যাবের হেলিকাপ্টার টিম, কমাডো টিম, পুলিশের বোম ডিস্পোজাল ইউনিট, সোয়াট ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে রমনার বটমূলে আসতে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এসময় সবাইকে তল্লাশি করে ভিতরে প্রবেশ করান হয়। এছাড়া পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মত। 

অনুষ্ঠানকে ঘিরে যেন কোন বিশৃঙ্খলা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন প্রশাসন। অনুষ্ঠান শুরুর আগ পর্যন্ত দফায় দফায় চলেছে নিরাপত্তা মহড়া। পরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পাড় হতে হয়েছে আগতদের।

এছাড়া সকাল ৯ টায় টিএসসি থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রায়ও ছিলো কড়া নিরাপত্তা। শোভাযাত্রার সামনে ও পেছনসহ চতুর পাশে ছিল র্যাব, পুলিশ ও সোয়াট টিমের সদস্যদের উপস্থিতি। এ ছাড়া যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে  শোভাযাত্রার মধ্যেও ছিলো সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা।

রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান ঘিরে গতকাল বুধবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে এসে র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যেকোনো  ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাব সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সরোবর, শিল্পকলা একাডেমি, বিআইসিসি ভবন, নজরুল একাডেমি, উত্তরা মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে  র্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার টিএসসি, শাহবাগ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং রমনা বটমূলকে বিভক্ত করে পর্যাপ্ত পরীক্ষণ চেকপোস্ট, টহল ও অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

ডিজি বলেন, ‘রমনা বটমূল, টিএসসি ও চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে র্যাবের বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং সম্পন্ন করা হবে। সারা দেশে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য থাকবে র্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, মোটরসাইকেল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল, বোট পেট্রোলিং, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজারভেশন পোস্ট, চেক পোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং করবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে নারীদের হেনস্থা ঠেকাতে নিজেদের প্রস্তুতির কথাও জানান এলিট ফোর্সটি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিচালনা করা হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ বিষয়ে এক র্যাব কর্মকর্তা বলেন, র্যাবের কাছে বেশ কয়েকজন নারী অভিযোগ করেছে হেনাস্তার বিষয়ে। পরে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলার বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছে। পরে অভিযুক্তদের ফোন থেকে ছবি মুছে ফেলে, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের অনুষ্ঠানে র্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ ড্রোন ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যা সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে বষবরণের অনুষ্ঠান স্থল উপর থেকে মনিটারিং করা হয়। এছাড়া এই ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রাকেও মনিটারিং হয়েছে।

এরআগে বর্ষবরণে পুলিশের নিরাপত্তা তৎপরতা কথা জানিয়ে গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘নববর্ষকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। এছাড়া ডগ স্কোয়াড, বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ও পুলিশ ও সোয়াটের সমন্বিত ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ওপর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক পরিমাণে সাদা পোশাকের পুলিশ।
 


   আরও সংবাদ