ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২, ৭ আশ্বিন ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

এসি মেকারের ছদ্মবেশে দস্যুতা করত বাপ্পি


প্রকাশ: ২৯ মার্চ, ২০২২ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন


এসি মেকারের ছদ্মবেশে দস্যুতা করত বাপ্পি

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসি মেকার রিফাত আলম বাপ্পি। রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে এসির মেকার হিসেবে কাজ করে। তবে এসি মেরামত কাজের আড়ালে ছদ্মবেশে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বাসায় চুরি করে আসছে এই টেকনিশিয়ান। তবে গৃহবধূ তানিয়া হত্যাকাণ্ডই প্রথম বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শনিবার রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় দুই শিশুকে বাসায় বেঁধে রেখে তাদের সামনে মা তানিয়া আফরোজকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।  এই হত্যাকাণ্ডের চার দিনের মাথায় গতকাল সোমবার রাতে ঝালকাঠি নলডাঙ্গা থেকে রিফাত আলম বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করে সবুজবাগ থানা পুলিশ। 

পরে তার দেওয়া তথ্যমতে আজ দুপুরে রামপুরা থেকে বাকি দু'জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের পর তানিয়া হত্যার চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর পল্টন থানার কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি আবদুল আহাদ এতথ্য জানান।

ডিসি আবদুল আহাদ বলেন, এটাকে ডাকাতি বলবো না, এটা দস্যুতা। বাপ্পি ভুক্তভোগী তানিয়ার স্বামী বাসায় থাকা অবস্থায় একবার বাসেয় যায়। কিন্তু কাজ না করে চলে আসে। পরে ঘটনার দিন সে তার সহকারীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই যায়। এছাড়া আগে থেকেই ওই বাসার সব খোজখবর নিতো।

হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রিফাত হাসান বাপ্পী সহ তার দুই সহযোগী সুমন হসেন হৃদয় ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত গলার চেইন, নাকের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে টাকাপয়সা ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা যায়নি।

ডিসি বলেন, নিহত তানিয়ার স্বামী ময়নুল ইসলামের পূর্ব পরিচিত এসি মেকার বাপ্পী। এই বাপ্পিই তার বাসায় এসি ফিট করেছিল। সেই কারণে বাসায় এসি রয়েছে বলে জানতেন বাপ্পি। এ ছাড়া এসি দোকানে অভিযোগ করে ময়নুল, যে তার এসি সার্ভিসিং করতে হবে। পরে একদিন ভুক্তভোগীর স্বামী বাসায় থাকা অবস্থায় আসে এসি মেকার বাপ্পী। কিন্তু সেই দিন ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে যায়। কিন্তু ঘটনার দিন বিকেল পৌনে চারটার দিকে এসি মেকার বাপ্পি তার সহযোগী হৃদয়কে নিয়ে বাসার নিচতলায় যান। এরপর বাসার কেসি গেটে নাড়া দিলে তানিয়া দ্বিতীয় তলা থেকে বেরিয়ে আসেন। এসি মেরামত করা লাগবে কি না জানতে চাইলে তানিয়া তার স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দেন। প্রথম দিকে তার স্বামী রাজি ছিলেন না। পরে অনুমতি দেন।

আব্দুল আহাদ বলেন, বাসায় ঢুকে আসামী দুজন এসি খুলে সার্ভিসিংয়ের কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘন্টা পরে বাপ্পী বাসার নিচে থেকে জিআই তার নিয়ে আসে। বাপ্পী ফেরার কিছুক্ষণ পরেই তার সহযোগী রুবেল বাসায় ঢোকেন। পরে তানিয়া আফরোজ তার পরিচয় জানতে চাইলে বাপ্পী জানায় সেও এসির কাজ করতে এসেছে। তখন তানিয়া আফরোজ তাকে চেয়ারে বসতে দেয়। আর তিনি ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রান্নাঘরে রান্নার পাশাপাশি এসির কাজের তদারকি করতে থাকে।

ডিসি বলেন, নিহত তানিয়া আফরোজ রান্নাঘর থেকে রুমে ঢুকে বাপ্পী ও রুবেলকে দেখেন তারা আলমারীর জিনিসপত্র এলোমেলো করছে। তখন তিনি চিৎকার করে। এ সময় রুবেল সাথে সাথে তানিয়া আফরোজাকে ঝাপটে ধরে প্রথমে বালিশ দিয়ে চেপে ধরে। আর বাপ্পী তার ব্যাগে থাকা চাপাতি বের করে মাথায় উপর্যুপরি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। 

আবদুল আহাদ বলেন, এ সময় বাসায় থাকা তার দুই সন্তান চিৎকার করে কান্নাকাটি করলে। তাদের সঙ্গে থাকা টেপ দিয়ে তাদের মুখ ও হাত বাধে তারা। এরপর আসামীরা ঘরের আলমারীতে থাকা স্বর্ণালংকার, ভিকটিমের কানে থাকা দুল, একটি স্বর্ণের চেইন, টাকা পয়সা ও মোবাইল সেট নিয়ে চলে যায়। পরে মেয়েটা হাত-মুখ বাধা অবস্থায় পাশের বাসার দরজায় গিয়ে মাথা দিয়ে আঘাত করলে, তারা দরজা খুলে দেখে এই অবস্থা। পরে তারা পুলিশকে ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মতিঝিল বিভাগের ডিসি বলেন, এসি মেকার বাপ্পি এরআগেও বেশ কয়েকটি বাসায় এসি ঠিক করার নামে দস্যুতা করেছ। তবে হত্যাকাণ্ড এটাই তার প্রথম বলে স্বীকার করেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় সবুজবাগ থানা এলাকার বেগুনবাড়ি মাস্টার গলির চারতলা ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন তানিয়া। ওই ঘটনায় লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের তিন বছর বয়সী মেয়ে ও ১০ মাসের ছেলেকে রক্তমাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। তানিয়ার স্বামী মাইনুল ইসলাম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরির কারণে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

গ্রেপ্তার আসামী বোপ্পীকে আদালতে তুলে পাচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে। আদালত একদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে।
 


   আরও সংবাদ