ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ কার্তিক ১৪২৯, ২৯ জ্বিলক্বদ ১৪৪৩

সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বাঙলা ভাষাকে চিহ্নিত করা হয়


প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন


সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বাঙলা ভাষাকে চিহ্নিত করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বক্তারা বলেন, একটি অসত্য চিন্তা থেকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বাঙলা ভাষাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সংস্কৃতিগত ও জাতীয়তাবাদী চেতনার জায়গা থেকে তুলে ফেলা হয়। সাম্প্রদায়িক চরিত্র দিয়ে একটি ভিনদেশি ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলন হয়েছে। আর সেই পথ ধরেই স্বাধীনতা পেয়েছি। 

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ‘একুশ থেকে একাত্তর: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব বর্ষ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বক্তারা বলেন, ৫২ তে উর্দুকে বাঙালির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল এই বলে যে, উর্দু হচ্ছে মুসলমানদের ভাষা, ইসলাম ধর্মের ভাষা। বিষয়টি অসত্য। কিন্তু পাকিস্তানের কোনো প্রদেশেই কিন্তু প্রাদেশিক ভাষা উর্দু নয়। মুসলিম বিশ্বে আরবি মুসলিমদের ভাষা নয়। তুর্কি, ফার্সি মুসলিমদের ভাষা নয়। পাকিস্তানিরা একটি সাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে একটি ভাষার চরিত্র নির্ধারণ করেছিল। বলা হয়েছিল বাংলা ভাষা হচ্ছে হিন্দুদের ভাষা আর উর্দু হচ্ছে মুসলিমদের ভাষা। 

তারা বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে ‘বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানের যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল তা এখনো বন্ধ হয়নি। ৫২ ’র ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালি পাকিস্তানিদের পরাজিত করে সেই ষড়যন্ত্রের জবাব দিয়েছি। কিন্তু এখনো বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি পাকিস্তান ও তাদের অনুসারীদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওমর ফারুক প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজকে যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। তাই এখন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখতে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। 

মেডের উপদেষ্টা বাসুদের ধর বলেন, ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। উন্নয়নের দিক থেকে সেই ভারতকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। এর মধ্যে নারী ক্ষমতায়নের উল্লেখযোগ্য। 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিডিয়া ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট (মেড) আয়োজিত সভায় মেডের উপদেষ্টা ও ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইম ক্যাব) সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. ফজলে আলী। এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোল্লা ভূঁইয়া, ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) এর সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ আমিনুল হক ভূঁইয়া, মেডের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম সবুজ ও পরিচালক নিখিল ভদ্র। 


   আরও সংবাদ