ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ কার্তিক ১৪২৯, ২৯ জ্বিলক্বদ ১৪৪৩

ইভ্যালি বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যার সমাধান না: মার্চেটরা


প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন


ইভ্যালি বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যার সমাধান না: মার্চেটরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমরা গ্রাহক ও মার্চেন্টরা এখন পূর্বের বকেয়া টাকা চাচ্ছি না। চাচ্ছি ব্যবসা চলমান থাকুন। ব্যবসা চলমান থাকলে টাকা দিতে পারবে, আর বকেয়া টাকা আস্তে আস্তে পরিশোধ করা সম্ভব। টাকা আমাদের, আমরা যদি অভিযোগ না দেই তাহলে রাসেল সাহেব কেন জেলে থাকবেন। রাসেল সাহেবকে সুপরিকল্পিতভাবে জেলে আটকে রাখা হয়েছে এবং ইভ্যালি বন্ধ করা হয়েছে। অনেক কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগ আছে। কিন্তু এমন কোনো অভিযোগ ইভ্যালির নামে নেই।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নাসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। ইভ্যালি মার্চেন্ট ও ভোক্তাদের জিম্মায় ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে মুক্তি করে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে তাদের বাঁচিয়ে রাখার দাবি।

ইভ্যালির গ্রাহকও সেলারা বলেন, এটা কোন সমস্যা না, একটা সমস্যা হলে সেটাকে ওভারকাম করা সম্ভব। সেটাকে বন্ধ করে দেওয়া কোন সমাধান না। যে কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে পারে, সেটা বিচারাধীন থাকুক। রাসেল সাহেবকে বাইরে থাকুক, আমরা তাকে সময় দিতে চাই।

তারা বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। সে যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তখন সে সাজা পাবে। এখন শুধুমাত্র তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, এই অভিযোগে যদি থাকে কারাগারে রাখা হয়। তাহলে তার ক্ষতির চেয়েও আমাদের গ্রাহকদের ক্ষতি বেশি।

গ্রাহক ও সেলাররা বলেন, দেশের অধিকাংশ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ইভ্যালিতে পণ্য সরবরাহ করত। করোনাকালীন সময়ে সবার স্বাভাবিক ভাবেই চলতে ফিরতে কষ্ট হয়ে গেছে। এই বন্ধ থাকায় বেশি চাপ হয়ে গেছে ইভ্যালির ওপর। এরপরে থেকেই সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু সমস্যা হলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া সমাধান না, সেটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলাই সমাধান।

লকারে বিষয়ে গণমাধ্যমের করা এক প্রশ্নের জবাবে ইভ্যালি মার্চেন্ট এন্ড কনজুমার কো-অর্ডিনেশন কমিটির সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন বলেন, একটা অফিসের লকারের যে টাকা থাকে সেটার ওপরে নির্ভর করে একটা অফিস চলে না। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ভ্যালু ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক মার্চেন্টদের উপরে নির্ভর করে তার সক্ষমতা, তাই লকারের টাকার উপরে নির্ভর করে ব্যবসা চলে না।

ইভ্যালির পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে যে তিনি বের হলে আপনাদের টাকা পরিশোধ করে দিবেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটা ব্যবসায় পরিকল্পনা করেছি, রাসেল সাহেব মুক্তি পেলে আমরা তার সঙ্গে বসে এসব ঠিক করব। এতে আমরা কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হবো না। এটা আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেউ জানিয়েছি।

টাকা পাচার করার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, সিইও রাসেল সাহেব ছয় থেকে সাত শত কোটি টাকা পাচার করেছে, আপনাদের কাছে তথ্য আছে। এমন কোন তথ্য এখন পর্যন্ত আমরা গ্রাহক ও মার্চেন্টরা পাইনি। আপনাদের কাছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আপনারা প্রকাশ করুন‌। তাহলে আমরা রাসেল স্যারের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাব। যদি তিনি সত্যিই আমাদের টাকা পাচার করে থাকেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত আমরা কোনো গোয়েন্দা তথ্য পাই নাই যে তিনি টাকা পাচার করেছেন।


   আরও সংবাদ