ঢাকা, বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩

জবির নতুন ক্যাম্পাসের ব্যয়ে ৫৪১ কোটি টাকার গড়মিল


প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট, ২০২১ ১২:৫৩ অপরাহ্ন


জবির নতুন ক্যাম্পাসের ব্যয়ে ৫৪১ কোটি টাকার গড়মিল

জবি প্রতিনিধি : পাঁচ বছর ধরে চলছে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় নতুন ক্যাম্পাসের কাজ। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু জমি অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ জমি গ্রহণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে এসব কাজে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ টাকার এ অঙ্ক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৮৯৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্যাম্পাসের জন্য ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ১৪৪১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৫৪১ কোটি টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, তা জানাতে পারেননি প্রকল্প কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের কোন কোন খাতে ১৪৪১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন বলেন, এত টাকা ব্যয় হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের তথ্য ভুয়া। তবে ব্যয়ের হিসাব চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তথ্য অধিকার আইনে তিন মাস আগে আবেদন করা হলেও তার জবাব পাওয়া যায়নি।

আর এদিকে প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে তাদের প্রায় চারগুণ দাম দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের প্রস্তাব দিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য প্রায় ২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এরপর ১৮টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। ওই বছরের নভেম্বরে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করে।ক

কমিটির নির্দেশে ২০২০ সালের মার্চে তিনটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সৃজনী উপদেষ্টা লিমিটেড কারিগরি মূল্যায়নে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করে এবং তাদের সেবার মূল্য চাওয়া হয় ৪ কোটি ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা। কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমানের পরামর্শে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আরবানাকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, যার সেবামূল্য ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু পরামর্শক নিয়োগ ও মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের ক্রয় প্রক্রিয়া পিপিআর অনুযায়ী না হওয়ায় অনুমোদন দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমন দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে উপাচার্য ইমদাদুল হক বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের দরপত্রে জটিলতা ছিল। আগের পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের আগস্টে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নির্মাণের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কেরানীগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস নির্মাণের ঘোষণা দেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে একনেক সভায় 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন :ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্প পাস হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৯২০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও প্রকৌশল ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, হ্রদ খনন, পুকুর খনন, ঘাট নির্মাণ, সংযোগ সেতু নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সারফেস ড্রেন নির্মাণ ও মাস্টারপ্ল্যানের কাজ করার কথা।

এরপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু ১৮৮ একর জায়গা অধিগ্রহণ করতে পেরেছে। এ কাজটিও শেষ হয়নি, অধিগ্রহণ করতে হবে ২০০ একর জমি। মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালি, নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের মাস্টারপ্ল্যানের কাজ নির্দিষ্ট কোম্পানিকে দেওয়ার পাঁয়তারায় বড় ধরনের অনিয়ম এবং সর্বশেষ করোনাকালীন সংকটে কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

নতুন ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী হেলালউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, নতুন ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীরের দরপত্র অনুমোদনের অপেক্ষায়। দ্রুতই সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হবে। লেক নির্মাণের দরপত্র জমা হয়েছে। আর মাস্টারপ্ল্যানের জন্য পুনঃদরপত্র দু-একদির মধ্যে আহ্বান করা হবে।


   আরও সংবাদ