ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ১৫ জ্বিলহজ্ব ১৪৪২

বিজিবি'কে মানসম্পন্ন সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে


প্রকাশ: ১৯ জুলাই, ২০২১ ০২:৫২ পূর্বাহ্ন


বিজিবি'কে মানসম্পন্ন সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : বিজিবি'কে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, বিজিবি'র সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এটিকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’এর অংশ হিসেবে সীমান্তে নতুন বিওপি, বিএসপি নির্মাণসহ অত্যাধুনিক সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট স্থাপন, এটিভি ও অত্যাধুনিক এপিসি, রায়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার ও দ্রুতগামী জলযান সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়াও অতি সম্প্রতি এই বাহিনীতে অত্যাধুনিক অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন সংযোজন করা হয়েছে। বিজিবি’র প্রশিক্ষণ কর্মকান্ডের কলেবর বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চুয়াডাঙ্গায় আরেকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আজ ময়মনসিংহের খাগডহরে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)'এর ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ রিক্রুট ট্রেনিং সেন্টার এর ময়মনসিংহ সেক্টর প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্যাটালিয়ন এর ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মাহমুদুর রহমান।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এ বাহিনী আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বিজিবি ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কি.মি. দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধসহ যেকোন ধরণের সীমান্ত অপরাধ দমন সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষার মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সাথে পালন করে আসছে।

এছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানসহ যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিশ্বস্ততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে সেবা ও কর্তব্য পরায়ণতার মাধ্যমে সমগ্র জাতির শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হলে ময়মনসিংহ রিক্রুট ট্রেনিং সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারী অফিসার, অধিনায়ক, ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান। সকাল সাড়ে ১০ টায় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম প্রদানের মধ্য দিয়ে নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। 

ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিজিবি'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় অসামরিক প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত থেকে এ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। 

প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের প্যারেড কমান্ডার হিসেবে মনোজ্ঞ এ প্যারেড পরিচালনা করেন ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের অফিসার ইনচার্জ মেজর এম এম জুবায়ের সালাহ উদ্দীন, এসি এবং প্যারেড এ্যাডজুটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মোঃ ইউনুছ আলী।

উল্লেখ্য, ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ চলতি বছর গত ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়। ময়মনসিংহ রিক্রুট ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নেয়া মোট ২৭২ জন রিক্রুট সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টসাধ্য এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে আজ আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের সৈনিক জীবনের শুভ সূচনা হলো।


   আরও সংবাদ