ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ১৫ জ্বিলহজ্ব ১৪৪২

গবিতে বকেয়া রেখেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ


প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২১ ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন


গবিতে বকেয়া রেখেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ

মোঃ বরাতুজ্জামান স্পন্দন, গবি প্রতিনিধি:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) অনুষ্ঠিতব্য সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, এপ্রিল ২০২১-এ বকেয়া পরিশোধ না করেই শিক্ষার্থীদেরকে তত্ত্বীয় কোর্সসমূহে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে প্রশাসন।

বুধবার (৩০ জুন) প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার ড. এস. তাসাদ্দেক আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হয়।

শনিবার (২৬ জুন) রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে বলা হয়েছিল, উক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পূর্বের সকল বকেয়াসহ চলমান সেমিস্টারের সমুদয় ফি’র অন্তত 50% পরিশোধ করতে হবে শিক্ষার্থীদের। পরবর্তীতে অফিস আদেশের মাধ্যমে এই ফি প্রদানের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ জুন করা হয় এবং তত্ত্বীয় কোর্সের পরীক্ষাসমূহে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ব্যতিক্রম এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই মহামারিতেও পূর্বের মতোই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মীদের সম্পূর্ণ বেতন পরিশোধ করে আসছে গবি প্রশাসন। করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে ছাটাইয়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি। বরং শিক্ষকদের পদন্নোতি ও নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়৷ 

এ নিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই শিক্ষার্থীবান্ধব এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্বশীল। এই কঠিন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের রিজার্ভ ফান্ড থেকে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলমান রেখেছে। 

তিনি আরও বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই একাডেমিক, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য বিষয়ে ব্যতিক্রমধর্মী স্বতন্ত্রতা ধরে রেখেছে। এই করোনাকালীন সময়েও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।

গবি প্রক্টর ও রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ক্যাপ্টেন অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আহসান বলেন, আমাদের অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা এখন গ্রামে অবস্থান করছেন৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকের আর্থিক অবস্থাও ভাল নেই৷ তাদের কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ করোনায় কোনো শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনা থেকে বেড়িয়ে না যায়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে৷ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের অবস্থাও ভাল নয়৷ তবুও ঋণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কাজ করে চলছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়। 

প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সাইন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী এস. এম. ফুজায়েল বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব এই সিদ্ধান্তটি এই মুহূর্তে খুবই প্রয়োজন ছিল। বরাবরই আমরা প্রশাসনকে শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবেই জেনেছি এবং ভবিষ্যতেও পাবো বলে আমি আশাবাদী।


   আরও সংবাদ