ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৭, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের ছবিসহ ডকুমেন্ট জমা দিলেও বিচার হয় নি


প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৮:০২ পূর্বাহ্ন


বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের ছবিসহ ডকুমেন্ট জমা দিলেও বিচার হয় নি

   

বশেমুরবিপ্রবি থেকে খাদিজা জাহান : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
 
শিক্ষার্থীরা জানান, মূলত আন্দোলন বন্ধ করতেই তৎকালীন উপাচার্যের নির্দেশে স্থানীয়দের কর্তৃক ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কোনো মামলা দায়ের না করায় প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাদী হয়ে এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

তবে এক বছর পার হয়ে গেলেও হামলার জড়িত পাচঁ শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার এবং এক শিক্ষার্থীর দুই সেমিস্টারের বহিষ্কারাদেশ ব্যতিত এ ঘটনার আর কোনো বিচার পাননি শিক্ষার্থীরা।

মামলার একজন বাদী প্রিয়তা দে বলেন, “মূলত আন্দোলন বন্ধ করতেই আমাদের ওপর হামলা করানো হয়েছিলো। হামলার পর বিচার নিশ্চিত করতে মামলা করাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলেও তারা ওই সময়ে মামলা না করায় আমরা ৭-৮ জন শিক্ষার্থী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে মামলা করেছিলাম। পরবর্তীতে আমরা হামলাকারীদের ছবিসহ বিভিন্ন ডকুমেন্টস প্রদান করেছিলাম। কিন্তু এক বছর পার হলেও হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি।”

 হামলায় আহত কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ মাশুকুর রহমান বলেন, “আমি সামনে থেকে খুব খারাপভাবে হামলার শিকার হওয়া একজন  শিক্ষার্থী হিসেবে বলতে পারি, এতগুলো উর্বর বিবেকের উপর এমন হামলা, একজন মানুষের পক্ষে কল্পনাও করা সম্ভব নয়। সাবেক উপাচার্যের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে আমি সহ আমার ভাই-বোনের উপর নির্বিচারে যে হামলা করা হয়েছিলো তার বিচার আমরা আজ অবধি পাইনি। 

নবনিযুক্ত নতুন ভিসি মহোদয় এবং প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে,যে বা যারা এই জঘন্যতম হামলার সাথে জড়িত ছিলো সকলকে বিচারের আওতায় এনে ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। যাতে পরবর্তীতে কেউ এমন ঘৃণ্য কাজ করার সাহস না পায়। আমি আমার কিংবা আমাদের উপর নির্মম আঘাতে শরীর বয়ে ঝড়ে পড়া প্রতিটি ফোটা রক্তের সুষ্ঠ বিচার চাই।”

মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল সেলের কর্মকর্তা সাজিদুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় এবং করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকায় সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবগত নই”।

 গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কিছু জানাতে রাজি হননি এবং এ বিষয়ো আদালত থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, “হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব ছিলো আমরা সেটা করেছি। যেসকল শিক্ষার্থীরা হামলার সাথে জড়িত ছিলো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এছাড়া বর্তমানেও কোনো সমস্যা তৈরি হলে সেগুলো সমাধান করছি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।


   আরও সংবাদ