ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৭, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জবিতে চার ভাগে বিভক্ত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা


প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন


জবিতে চার ভাগে বিভক্ত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা

   

জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)'এর আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল ভেঙ্গে তিনটি দল ও 'জয় বাংলা শিক্ষক সমাজ' নামে আরেক সংগঠনসহ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা চার ভাগে বিভক্ত বলে জানা গেছে। এর আগে ২০১৭ সাল থেকে দুই ভাগে বিভক্ত হওয়া জবি নীলদল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার প্রশ্ন তুলেছেন নীলদলের (একাংশ) কার্যনির্বাহী সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. শামছুল কবির। এসব অভিযোগ তুলে তিনি তার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পর নীলদলে তার মিত্র শিক্ষকদের নিয়ে আরেকটি নতুন দল গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। 

সামসুল কবির বলেন, যদি নীল দল তাদের আদর্শের জায়গায় ফিরে না আসে তাহলে নিজে থেকেই নতুন দল গঠন করার কথা ভাববো। যার মূল উদ্দেশ্য হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করা। এদিকে জবি নীলদলের এমন ত্রিমুখী বিভক্তি ও অন্য একটি সংগঠন (জয় বাংলা) মিলে মোট চারটি বিপরীতমুখী প্যানেলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অবস্থান দেখা গেছে।

জানা যায়, নীলদলের (একাংশ) বিরুদ্ধে অঞ্চলপ্রীতি ও জামায়াত-বিএনপির সংশ্লিষ্টতা এনে গত ৫ মার্চ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর ‘কার্যনির্বাহী পর্ষদ ২০১৯-২০২০’ এর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ পত্র জমা দেন ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শামছুল কবির। এরপর গত মঙ্গলবার নীলদলের (একাংশ) কার্যনির্বাহী কমিটি ও অনুষদ কমিটির সভায় এবিষয়টি গৃহীত হয়। 

এর আগে ২০১৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নীল দলের ২০১৬-১৭ কার্যনির্বাহী পর্ষদের মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। নীল দলের দু'পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ৩১ জুলাই নীল দলের নির্বাচনের দিন ধার্য করে তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের আগে নীল দলের দু'পক্ষের মধ্যে একাধিক সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একটি পক্ষ গঠনতন্ত্রে প্রস্তাবিত ৫ ধারার ১১ সদস্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি পদ দাবি করে। কিন্তু অন্যপক্ষ তাদের দাবিকে সমর্থন না করে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনে মতামত দেয়। সভায় দু'পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে গত ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই মাইক্রোবায়লজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরে আব্দুল্লাহর অনুমোদনক্রমে ২০১৭-১৮ সালের ১৯ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। 

এ বিষয়ে ড. শামছুল বলেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৭ সালে আমরা একাংশ নিয়ে নীলদল গঠন করি তা সম্পূণরুপে ব্যত্যয় হয়েছে। বর্তমানে এই নীলদল আওয়ামী লীগের আদর্শ কতটুকু ধারণ করছে তা সন্দিহান। কিছু ব্যক্তি নিজের স্বার্থ ও কর্তৃত্ব হাসিল করা এবং প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নীলদল করছে। অথচ এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ না। আর তিনি এটা শিক্ষা দেননি। তিনি আরো বলেন, মুখে মুখে বঙ্গবন্ধু বললে হবে না। তা কাজে কর্মে প্রমাণ থাকতে হয়। এছাড়া এই গ্রুপে অসংখ্য জামায়াত-বিএনপির 
শিক্ষক ঢুকে গেছে এবং তাদের নিয়মনীতি, নির্ধারনী মোতাবেক এই গ্রুপটি পরিচালিত হচ্ছে। তাই বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শিক সৈনিক হিসেবে আমি মেনে নিতে পারি নাই। ফলে এই নীলদলের কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। 

এবিষয়ে নীল দলের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, গত ৫ মার্চ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর ‘কার্যনির্বাহী পর্ষদ ২০১৯-২০২০’ এর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ পত্র জমা দেন শামছুল কবির। এরপর গত মঙ্গলবার নীলদলের (একাংশ) কার্যনির্বাহী কমিটি ও অনুষদ কমিটির সভায় এবিষয়টি গৃহীত হয়। 

অন্যদিকে এ বিষয়ে জবি নীলদল অন্য অংশের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো আইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্র আছে, নির্বাচন হয়। যারা অবৈধ ভাবে দল গঠন করেছে সে অবৈধ দল থেকে আরেকটা বেরিয়ে গেছে। তারা অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে দল গঠন করেছে আরেকটা যদি হয় সেটাও অনিয়মতান্ত্রিক হবে। তিনি আরো বলেন, সুবিধাবাদী বা কতৃত্ববাদীরা কখনো এক থাকতে পারে না। তারা আদর্শের চেয়েও চাওয়া পাওয়াকে গুরুত্ব দেয় বেশি এবং সেই কারণেই তাদের সাথে আমাদের মিলটা হয়নি।


এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল একটি থাকলেও ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে 'জয় বাংলা শিক্ষক সমাজ' নামে আরেকটি আওয়ামীপন্থী সংগঠণের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটির আহবায়ক জবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস নীল দলের ভাঙ্গন সম্পর্কে বলেন, নীল দলের ভাঙ্গন হচ্ছে স্বার্থের কোন্দলের ফল। নীল দলের এই দুই গ্রুপ আগে থেকেই নিজেদের স্বার্থে তদবির করে আসছে। এরা হলো তদবিরবাজ, গ্রুপবাজ এবং স্বার্থবাজ। কেউ কেউ আছে যারা বিএনপির সময়ে নিয়োগ পেয়েছে এমন শিক্ষকও নীলদল করে। ওদের সঙ্গে আমাদের কোন বনিবনা হয় না।

অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের কাছে 'জয় বাংলা শিক্ষক সমাজ' এর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা দলের কানেক্টিভিটি বাড়াচ্ছি। শিক্ষকদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছি। খুব শিঘ্রই আমরা দুই সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিব।

২০১৯ সালে 'জয় বাংলা শিক্ষক সমাজ' প্রতিষ্ঠার আগে আপনি নীল দলে ছিলেন কিনা, প্রশ্নে ড. মিল্টন বলেন, এর আগে নীল দলে দুইটা গ্রুপ থাকার কারণে কখনো অ্যাক্টিভ ছিলাম না। তবে পার্সন দেখে ভোট দিতাম। স্বার্থীবাদী বলে আমি নীল দলের বাইরে 'জয় বাংলা শিক্ষক সমাজ' গঠন করি।


   আরও সংবাদ