ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭, ৩ সফর ১৪৪২

কানাডা ও ফিজিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, ৬ নারী র‍্যাবের ফাঁদে


প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন


কানাডা ও ফিজিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, ৬ নারী র‍্যাবের ফাঁদে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বনানীতে অফিস খুলে কানাডা ও ফিজিতে ভাল চাকরির প্রলোভনে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে ৬ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

এসময় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্ব বনানীর ৪ নম্বর রোডের ড্রিম ভিসা কনসালটেনসি নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মালিক তোফাজ্জল হোসেন, জুই আক্তার, সানজিদা, সাদিয়া, নাইমা জুম ও স্বপ্না আক্তার। 

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিদেশে লোক পাঠানোর কোনও লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কিন্তু তারপরও তারা তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা ও ফিজিতে পাঠানোর কথা বলে বিজ্ঞাপন দিত। এরপর তাদের অফিসের ঠিকানায় যারা আসতো তাদের বসিয়ে কাউন্সিলিং করতো। 

তাদের পাসপোর্ট ও বিদেশ পাঠানোর নাম করে টাকা হাতিয়ে নিত। তারা নির্দিষ্ট সময় পরপর অফিস বদল করতো। ভুক্তভোগীরা তাদের আর খুঁজেও পেতো না। 

তিনি বলেন, ওই অফিসে অভিযানের সময় ৩২টি পাসপোর্ট, ভুয়া চুক্তিপত্র, ফিজিতে প্রেরণের ভুয়া ডিমান্ড লেটার জব্দ করা হয়। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তোফাজ্জলকে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয় এবং বাকিদের প্রত্যেককে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেয়া হয়। অনাদায়ে প্রত্যেকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

অন্যদিকে, এক তরুণীকে দুবাইয়ের একটি অভিজাত হাসপাতালে আয়ার চাকরি দেয়ার কথা বলে সৌদিতে পাঠায় ফাতেমা ওভারসিস নামের  একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর ওই তরুণীকে একটি সৌদির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই তার উপর অকথ্য নির্যাতন নেমে আসে। 

শুধু তাই নয়, কয়েক মাস কাজ করলেও তাকে কোনও বেতন ও টাকা পয়সা দেয়া হয়নি। ওই তরুণীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বনানীর ১০ নম্বর রোডে থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। 

অভিযানে এজেন্সিটির মালিক কবির হোসেন ও সহযোগী সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যপারে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, এজেন্সিটি মূলত ওই তরুণীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা তাকে প্রথমে দুবাই পাঠানোর কথা বলেছিল। 

শর্ত ছিল তাকে সেখানে একটি হাসপাতালে ভাল কাজ দেবে। কিন্তু  বিমানবন্দরে নেয়ার পর তাকে জানানো হয় সৌদিতে পাঠানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ওই তরুণীও সৌদিতে যান এবং সেখানে গৃহকর্মীর কাজ নেন। 

তিনি বলেন, যে বাসাটিতে ওই তরুণীর কাজ দেয়া হয়েছিল সেখানে তাকে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। শুধু তাই নয়, কয়েক মাস কাজ করানো হলেও কোনও বেতন দেয়া হয়নি। তাকে মাঝে মাঝে খাবারও দেয়া হতো না। তরুণীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফাতেমা ওভারসিসে অভিযান চালানো হয় এবং দুই জনকে মানব পাচার আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়। 

তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


   আরও সংবাদ