ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭, ৩ সফর ১৪৪২

যশোর এমএম কলেজের এক ছাত্রের উপর হামলা


প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:০৪ অপরাহ্ন


যশোর এমএম কলেজের এক ছাত্রের উপর হামলা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় রাম দা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিপেটা করে সাইদুর রহমান (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত সাইদুর উপজেলার মাঠচাকলা গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং যশোর সরকারি এমএম কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) ছাত্র।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। রাতে সেখানে ক্ষতস্থানে সেলাইয়ের পর স্বজনরা তাকে যশোর ইবনে সিনা প্রাইভেট হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের নিমতলা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে আহতের পরিবার চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে যায়। তবে এ রিপোর্ট লেখার সময় শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।

আহতের চাচাতো ভাই মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই সাইদুর বৃহস্পতিবার রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের নিমতলা বাজার থেকে গ্রামের ফিরোজ ও সাজেদুরের সাথে বাড়িতে ফিরছিল। বাজার থেকে দুই মিনিট হেঁটে বাড়ি পৌঁছানোর ২-৩শ ফুট দূরে থাকতে হঠাৎ রাস্তার পাশে ওত পেতে থাকা একই গ্রামের মশিয়ারের ছেলে ফরহাদ (১৯) লাঠি দিয়ে মারপিট শুরু করে। সাইদুর মাটিতে পড়ে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে। ওই সময় গ্রামের সাব্দারের ছেলে আশরাফুল (৩০) একটি রাম দা দিয়ে কোপ দিলে তার বাম হাতে মারাত্মক জখম হয়। 

এসময় সাইদুরের সাথে থাকা একজন মোবাইলের লাইট অন করলে আশরাফুল ও ফরহাদ তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সাইদুর তাদের দুজনকে চিনতে পেরেছে বলে আমাদের জানিয়েছে। এদের সাথে অন্য কেউ ছিল কিনা সে বলতে পারেনি।’
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।

মুজাহিদ বলেন, ‘সাইদুরের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার বাম হাতে কম করেও ৪০টি সেলাই দেওয়া লেগেছে। দুই ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন, আরো রক্ত দেয়া লাগতে পারে।’

‘আমার ভাইয়ের বা আমাদের পরিবারের কারো সাথে বিরোধ নেই। এমনকি আমার ভাই কারো সাথে মাথা উচুঁ করে কথাও বলে না। ধারণা করছি, অন্য কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করতে চাইলেও রাতের আঁধারে ভুল করে সাইদুরের ওপর আক্রমণ করেছে সন্ত্রাসীরা,’ বলছিলেন মুজাহিদ।

স্থানীয়রা বলছেন, আশরাফুল একটি অস্ত্র মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। জ্ঞাতি ভাই গ্রামের কাদেরের ছেলে জুয়েলের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। জুয়েলকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হয়তো এই আক্রমণ করে সে।

হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, ‘ওরা মারবে জুয়েলকে। একই রকম চেহারা হওয়ায় সাইদুরের ওপর হামলা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’


   আরও সংবাদ