ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৭, ৭ সফর ১৪৪২

জবিতে কাজ শুরুর আগেই লাখ টাকার ভোল্টেজের কার্যক্ষমতা শেষ


প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন


জবিতে কাজ শুরুর আগেই লাখ টাকার ভোল্টেজের কার্যক্ষমতা শেষ

জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) লিফট লাগানোর আগেই লিফটের জন্য ব্যবহৃত প্রায় লাখ টাকা মূল্যের ভোল্টেজ স্টাব্লিজারের কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। জবির বিবিএ ভবনে তৃতীয় লিফটের (ছাত্রী কমনরুমের পাশে) কাজ এখনো চালু হয়নি। 

অথচ জবি প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তার অদূরদর্শিতায় দেড় বছর আগে কেনা স্টাব্লিজারের ওয়ারেন্টির গ্যারান্টি মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কার্যক্ষমতাও শেষ হওয়ায় বর্তমানে তা স্টোরে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অঙ্কের টাকার অপচয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোল্টেজ স্টাব্লিজার হলো লিফট স্বয়ংক্রিয় উঠানামার জন্য ভোল্টেজ আপডাউনকে কাভার দেওয়ার একটি ইলেকট্রিক যন্ত্র যার মেয়াদ বিভিন্ন কোম্পানিতে পনেরো থেকে আঠারো মাস হয়ে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় গোপন সূত্রে জানা যায়, জবি প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) অপূর্ব কুমার সাহা দেড় বছর আগে বিবিএ ভবনে চালু দুইটি লিফটসহ ছাত্রী কমনরুমের পাশে চালু না হওয়া তৃতীয় লিফটের জন্য তিনটি ভোল্টেজ  স্টাব্লিজার কিনতে নির্দেশ দেন। 

লিফট কেনার আগেই অর্থ অপচয়ের এমন সিদ্ধান্তে সেসময় একই দপ্তরের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) অপূর্বকে বাধা দেন। কিন্তু প্রকৌশল দপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার চন্দ্র সাহার ভাগিনা বলে পরিচিত অপূর্ব কুমার সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ অপচয়ের এমন সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা হননি। অথচ বিভিন্ন অনিয়মে বাধা প্রদানের জন্য সেই উপ-প্রকৌশলীকে দপ্তরের নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিতসহ প্রমোশন আটকিয়ে রাখা হয়।

যে লিফট এখন লাগানো হচ্ছে তার স্টাইব্লিজার দেড় বছর আগে কেনা কেন এবং অতিরিক্ত ক্রয় কেন? এমন প্রশ্নে প্রকৌশলী অপুর্ব কুমার সাহা কথা বলতে রাজি হননি। ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কল কেটে দেন এবং পরে চেষ্টা করেও তাকে আর ফোনে পাওয়া যায় নি।

অর্থ অপচয়ের বিষয়ে জবি প্রকৌশল দপ্তরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকারী মো. সেলিম খানকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি দেড় বছর আগে ছিলাম না। সে সময় প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার চন্দ্র সাহা ও সহকারী অপূর্ব কুমার সাহা এগুলো কিনতে পারেন।" 

তিনি আরও বলেন, "এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। এমন কোন যন্ত্রের অপচয় হচ্ছে কিনা কাল অফিসে গিয়ে খোঁজ নিব।"

প্রকৌশল দপ্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অর্থ অপচয়ের বিষয়ে জবি ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


   আরও সংবাদ