ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭, ৩ সফর ১৪৪২

পরধর্ম সহিষ্ণুতা মুক্তির পথ


প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট, ২০২০ ০৫:১০ পূর্বাহ্ন


পরধর্ম সহিষ্ণুতা মুক্তির পথ

আব্দুল গাফফার আল-মাক্কী : ইসলামী জীবন বিধান জাতি-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকার সু প্রতিষ্ঠা করেছে। অমুসলিমদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা তথা ধর্মীয় স্বাধীনতা সব কিছু নিশ্চিত করা হয়েছে ইসলামী জীবন বিধান। কাফের ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান সকলের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। অমুসলিম বলে তাদের সাথে শত্রুতা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং অমুসলমানদের সুযোগ-সুবিধা নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন।

যদি কোন মুশরিক আপনার কাছে রাসুল সালাম সালাম নিরাপত্তা চাই তাহলে তাকে নিরাপত্তা দিন যাতে সে আল্লাহর কালাম শ্রবণ করার সুযোগ পায় অতঃপর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিন।

রাসুল সালাম আলাই সালাম এরশাদ করেছেন তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না রাগান্বিত হওয়া এবং একে অপরকে দোষ অনুসন্ধান করুন বরং তোমরা এক আল্লাহর বান্দা হয় তাহলে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যেতে পারে না।

আল কোরআন ও আল হাদিসের আলোকে পরধর্ম সহিষ্ণুতা এক কথার মর্ম জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের একান্তই উচিত চিরকালই পৃথিবীতে ধর্মীয় অভাব ছিল যুগে যুগে মানুষ বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে জুলুমের শিকার হয়েছে প্রাচীন ধর্ম আধুনিক যুগের ধর্মীয় সহিংসতা অনেক কথা জানা যায়।

 আল-কোরআনে কিছু কিছু ঘটনার ইঙ্গিত করা হয়েছে এভাবে ধ্বংস হয়েছিল কুম্বের অধিপতিরা ইন্দন পুণ্য যেকোনো ছিল আগুন। যখন তারা এর পাশে বসেছিল এবং তারা মুমিনদের সাথে যা করেছিল তা প্রত্যক্ষ করতেছি ছিল এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার কারণে তাদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

ইসলাম যখন তার যোগান তরকারি সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করল তখন সে পূর্ববর্তী সকল ধর্ম সম্পর্কে ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেনি বরং বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদ এর বিরুদ্ধে কোনো রকম হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ায়নি।

এক্ষেত্রে ইসলাম সব সময় নমনীয় মনোভাব অবলম্বন করেছেন- পবিত্র কুরআন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে নবী ও রাসূলগণের মাধ্যমে সকল ঐশী ধর্ম গ্রহণ ধর্মগ্রন্থের উৎসাহ একই।
আল্লাহ প্রেরিত সকল নবী রাসূলের মর্যাদা সমান এক্ষেত্রে কারোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই সকল নবী রাসূলের উপর ঈমান আনা মুসলমানদের কর্তব্য।

ইসলাম গ্রহণে কোন জোর জবরদস্তি নেই বরং এটা মানুষের ইচ্ছা ও আগ্রহের উপর নির্ভরশীল সূরা বাকারা 256 আয়াতে বলা হয়েছে ধর্ম কোন ধর্ম কোন জোরজবস্তি নেই কোনটা সফল এবং কোনটা অসত পত তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

নিছক ধর্মীয় মতবাদ এর কারণে পরস্পরকে হত্যা করা বা একে অপরকে আক্রমণ চালানো অবৈধ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের প্রতিরোধে সকলের পারস্পরিক সহযোগিতা করা উচিত।

সকল ধর্মের উপাসনালয় সমান না মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ যেমন মুসলমানদের উপর ওয়াজিব তেমনি অন্য উপসনালয় রক্ষণাবেক্ষণ করা ওয়াজিব।

ধর্মীয় মত মেয়েদের কারণে পর উপকার আর্তের সেবা আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচার ও অথিতি সমাধান বাধাগ্রস্ত হওয়া যাবে না ‌।

যারা ইসলামের পরিপন্থী আকিদা বিশ্বাস পোষণ করে ইসলাম তাদেরকে গালিগালাজ করার অনুমতি দেয়নি।

এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- যা যারা আল্লাহকে ছাড়া অন্য উপাস্যের পূজা করে তাদেরকে গালি দিও না তাহলে তারা শত্রুতা ও অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দেবেন।
রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন তখন সেখানে বিপুল সংখ্যক ইহুদি বাস করত তাই তিনি সেখানে ইসলাম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম যে কাজটি করলেন সেটি হল এই তিনি ইহুদীদের সাথে সুখ শান্তি চুক্তি সম্পাদন করলেন।

এই চুক্তির আলোকে স্থির হয় যে ইসলামী রাষ্ট্র ইহুদীদের আকিদা বিশ্বাসকে সম্মান প্রদর্শন করবেন এবং তাদেরকে সবরকম দুঃখ-কষ্ট ও জুলুম থেকে রক্ষা করবে এই চুক্তির ফলে ইসলাম ধর্মীয় উদারতা ও সহিংসতা প্রথম দিন থেকেই ইসলামী সভ্যতার মূল মঞ্চে পরিণত করেন।

মদিনায় কিছু ইহুদী ছিল রাসুল সালাম এর প্রতিবেশী তিনি সব সময় তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন তাদের উপহার পাঠাতেন এবং তাদের উপহার গ্রহণ করতেন ইসলামের ধর্মীয় উদারতা ও সহিংসতার সুযোগে এক মহিলা তার নিকট ভুনা রান্না বিষ মিশিয়ে পাঠায়। রাসুল সালাম সালাম সেটি বসে যাওয়ার পরও মহিলাকে ক্ষমা করে দেন।

আবিসিনিয়ার খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল যখন মদীনায় এল তখন তাদেরকে মসজিদে নববীতে থাকতে দিলেন এবং তাদের সেবা ও খেদমতের দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করলেন।

নাজরানের ক্রিস্টান প্রতিনিধিদল মদিনাতে এলে রাসুল সালাম আলাই সাল্লাম তাদেরও মসজিদে নববী থাকার ব্যবস্থা করলেন এবং তাদেরকে মসজিদে নববীতে বসেই নিজস্ব নিয়মে নামাজ পড়ার অনুমতি দিলেন।

আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় হাবীব কে বিশ্বের মানবজাতিকে যেভাবে ওকে রাব্বান জানাতে শিক্ষা দিয়েছেন আজকের এই বিশ্ব থেকে ধর্মীয় সহিংসতা ও বিভেদ দূর করার এর চেয়ে আর কোন উপায় উত্তম পথ আছে বলে আমরা মনে করি না।

এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন এসো হে দুনিয়ার মানুষ সাদাকালো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলে একটি কথার উপরে অক্ষ বদ্ধ হয়ে যায় যেটা সকলের জন্য সমান ভাবে কল্যাণকর। আর তা হলো এক আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই।

আমরা কারো গোলামী করবো না এবং এক আল্লাহর সাথে আর কাউকে শরিক স্থাপন করব না আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে পর ধর্মের প্রতি উদারতা ও সহনশীলতা হওয়ার তৌফিক দান করেন আমিন।

মুহাদ্দিস আব্দুল গাফফার আল-মাক্কী
প্রধান মুহাদ্দিস (সহকারী অধ্যাপক)
তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, প্রধান শাখা।
বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।


   আরও সংবাদ