ঢাকা, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ আষাঢ় ১৪৩০, ২২ শাবান ১৪৪৫

কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও প্রাক-শৈশব উন্নয়ন হচ্ছে : রাবাব ফাতিমা


প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০ পূর্বাহ্ন


কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও প্রাক-শৈশব উন্নয়ন হচ্ছে : রাবাব ফাতিমা

   

কূটনৈতিক প্রতিবেদক : চলতি বছরে ইউনিসেফ যে সকল বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে তার মধ্যে কন্যাশিশুর শিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও প্রাক শৈশব উন্নয়ন অন্যতম।

আজ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের ২০২০ সালের প্রথম নিয়মিত সেশনে সভাপতির সৌজন্য বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। 

উল্লেখ্য ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ড হচ্ছে এর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী প্লাটফর্ম। চলতি বছরের এই প্রথম সেশন আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, শিশুদের সকল অধিকার সুরক্ষিত করার পাশাপাশি শিশুরা যাতে শান্তির সংস্কৃতি, অহিংসা ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতার মত মানবীয় গুণাবলী ধারণ করে উন্নত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে- সেভাবে তাদের প্রস্তুত করার দায়িত্বও ইউনিসেফের নেওয়া প্রয়োজন।

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী এবং নারী ও কন্যাশিশুদের সমতা সৃষ্টির প্লাটফর্ম-বেইজিং ঘোষণার ২৫তম বার্ষিকী -এ’দুটি বহুপাক্ষিক মাইল ফলকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা এখনও আমাদের মেয়েদের বৈষম্য ও পশ্চাৎপদতা থেকে মুক্ত করতে পারিনি। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমাদের অবশ্যই সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে”। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ বছর বয়সের নীচের শিশুদের মৃত্যুহার ৬০-৭৫ ভাগ হ্রাস, ৮২% গর্ভবতী নারীদের এইডস্ থেকে সুরক্ষার ঔষধ প্রাপ্তি, গত দুই দশকে খর্বাকৃতির শিশুর সংখ্যা ১৫% হ্রাসসহ বিশ্বের শিশুদের সুনির্দিষ্ট কিছু উন্নয়নের তথ্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। 

এখনও বিশ্বের ৬৬০ মিলিয়ন শিশুকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত করা যায়নি এবং এখনও ৬০ মিলিয়ন শিশুকে স্কুলে নেওয়া যায়নি মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সাইবার অপরাধ, সুদীর্ঘ সময় ধরে চলমান মানবাধিকার সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কটের মতো নতুন ও উদীয়মান কিছু ঙ্বশ্বিক সমস্যা যা শিশুদেরকে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সে বিষয়সমূহ উল্লেখ করেন ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। 

এসকল বিষয়ে ইউনিসেফের আরও কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইউনিসেফের ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কর্ম-পরিকল্পনার মধ্যম মেয়াদী রিভিউর প্রশংসা করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। ইউনিসেফের কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে উদ্ভাবনী অনুশীলনের প্রতি আরও জোর দেন তিনি।

শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও দেশের যুব জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণসহ রোহিঙ্গা শিশুদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক মিজ্ হেনরিয়েটা ফোর বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

চলতি এই অধিবেশনটি ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের প্রতিবছর অনুষ্ঠিত তিনটি বাধ্যতামূলক অধিবেশনের প্রথমটি, যার বাকী দুটো এ বছরের জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে।


   আরও সংবাদ